“বাস্তবতার লড়াই – বেঁচে থাকা”
পৃথিবীর ভাঁজে ভাঁজে নিয়ত চলছে ঠান্ডা যুদ্ধ!
যার আছে ভুড়ি ভুড়ি সেই করে দেয় পথ রুদ্ধ!
নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় কারো ঘরে,
কেউ বা ভুকা থেকেই ধুকে ধুকে যায় মরে!
কোটি টাকা উড়ায় কেউ বা বাতাসের তোড়ে!
টাকার অভাবে দিন যায় কারো নির্লিপ্ত বেঘোরে!
কারো বা আবার নিরন্তর অভাবের ভারে,
বেঁচে থাকা হয় দায় – পার্থিবতার এই খেলাঘরে!
আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখি চাঁদের আলো –
আছড়ে পড়ে উঠোন জুড়ে, তবুও আঁধার কালো!
আরো দেখি সময়ের তালে ভেসে যায় সময়!
তোমার বিষাদে আমার মনে, নেই কোন পরাজয়!
ঘরের হাঁড়ি উনুনে চড়েনি সন্তান অশ্রুসজল!
টাকার জন্যে হয়ে হণ্যে বাবা, ফেলছে অশ্রুজল!
মায়ের আঁচলে মাথা খুটে উপার্জনক্ষম ছেলে,
রোজগারের পথ পায় না খুঁজে, জীবন যায় বিফলে!
মাঝে মাঝেই মনের ভেতর ছটফটায় মন একাকী!
সম অধিকারের নিশ্চয়তা দিলে হতো ক্ষতি কি?
সমাজের নিউরনে জমে আছে কতো শত ব্যথা!
তুমুল আলোড়নে কম্পিত কেন হৃদয়ের বারতা?
অর্থবিহীন জীবন খেলায় কেন এতো দুঃখ-কষ্ট?
উদ্যত হয় প্রাণ সাজানো বাগান করে দিতে বিনষ্ট!
এলোমেলো এই বেঁচে থাকার নৃশংস লড়াই মাঝে,
কাঁদে কেন প্রাণ, কেন বাস্তবতার ডামাডোল বাজে!
“বিরহ ব্যথায় বেঁচে থাকা”
জীবন বোঝাতে পারিনি তবুও আমি!
জীবনের জন্যে আজও জীবন পাইনি!
তুমি শুধু তোমারই সুখে রইলে মত্ত,
আমাতে তোমার দৃষ্টি খুঁজে পাইনি!
তোমাতেই মুগ্ধতায় অপলক মায়ায়,
আমি দেখতে চেয়েছিলাম উত্তাল সমুদ্র;
অথচ আমাতে কিছুতেই আমি আর,
তোমার দৃষ্টি কখনো পাইনি নিবদ্ধ!
শিমুল ফুলের মঞ্জরিত শাখা দুলিয়ে,
ঝরালে না রক্ত রাঙা ফুলের বাহার;
শুধু নিজেরই মাঝে থেকে দীপ্ত পুলকে,
দূর পরবাসী করে রাখলে মন তোমার!
আমিও এক উড়নচণ্ডী একলা থাকি,
মনের ভেতর নির্জলা খেয়ালী প্রেম;
সময়ের স্রোতে ভাসমান হৃদয়ের পাল,
ভরাডুবি করে শুধু, জানি না কি পেলেম!
তবুও কখনো বা খুঁজে ফিরে ফিরে যাই,
হাতড়ে বেড়াই জীবনের রংধনুর রেখা;
শত জনমের এই তো নিয়তি আমি জানি,
তোমার সাথে বুঝি বা হবে না আর দেখা!
মধ্যরাতের এই নির্জন রাতের প্রহরে –
কেউ নেই, সমস্ত চরাচর আজ নিঝুম নিস্তব্ধ!
কালকেউটে সাপের বিষাক্ত দংশনের জ্বালা,
বুকের পাঁজরে নিয়ে নিষ্প্রাণ দেহ তাই স্তব্ধ!
“অকূল পাথারে বেঁচে থাকা”
ছেড়ে দেওয়া যায় না নিজেকে কোনভাবেই,
পুরোপুরি বা আংশিক –
জীবনের সবটাই আপন গতিতেই সম্প্রসারিত,
কিংবা জীবনের খেলাঘরে আপনিই কুণ্ঠিত!
জীবন খাতার পৃষ্ঠাগুলো
যখন খুব বেশী এলোমেলো,
যখন বাস্তবতার নিষ্ঠুর আঘাতে প্রাণের ভেতর
নিরন্তর অস্থির ধুকপুকানি –
আপন ইশারাতেই তখন জীবনের পথচলা;
বোধের জাগরণে হয়তো বা এমনটিরই প্রয়োজন!
সম্পূর্ণ অস্তিত্ব যখন বেসামাল নড়বড়ে,
সবকিছুই যখন কেবলই বাঁশের সাঁকোর মতো
ঝুলন্ত আর ঝুঁকিপূর্ণ,
তবু্ও জীবন সাজিয়ে রাখে নিজেকে,
জীবনের রঙ বুনে;
নিজেকে গন্ডির মাঝে আবদ্ধ রাখার জন্যে ,
বুঝি বা এমনটিরও প্রয়োজন!
আমি ভেসে চলি সুবিশাল আকাশের নীলে,
উড়ে চলি আমি উন্মুক্ত নদীর মোহনায়,
আমি বাস্তবতার কারাগারে ছটফটিয়ে শৃঙখলিত,
ভীষণ দহনের জ্বালায় আমি নগন্য, অসহায়!
অক্টোপাসের ঝাপটা কি ভীষণ নিদারুণভাবে,
আঁকড়ে ধরতে পারে সজোরে; আর
প্রচন্ড সেই ঝাপটার মাঝেই আমি পালিত!
মাকড়সার জাল অতি দুর্বল, তবু্ও
কতো সুনিপুণভাবে সেই জালের বিস্তার;
সেই ক্ষণিকের জালেই আমি লালিত!
দু’টোর মাঝেই রয়েছে ভীষণ রকমের প্যাঁচঃ-
একটি শুনতে ভয়ংকর –
যা কিছু ধরে, তার বিনাশ করে ছাড়ে;
আর অন্যটি যদিও নিজের জন্যেই জাল বুনে,
বাস্তবে সে বড় বেশীই দুর্বল!
পার্থিবতার মাঝেই সৃষ্টি আর বিনাশ –
কতো সহজেই জীবনের ভীড়ে জাগায় তিয়াস!
অথচ জীবনের করুণ আর্তনাদে,
নেশাঘোরে জীবন বারবার পড়ে ফাঁদে!
তারই মাঝে কৃপাধন্য প্রাণের শেকড়ে,
তুমি আমি সে এবং সকলেই –
বেঁচে আছি পরস্পরের প্রাণ স্পর্শ করে!
“একটু চাপা কষ্ট”
মাঝে মাঝেই বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলিকে,
গুছিয়ে নিতে পারি না!
তাই মাঝে মাঝেই, একটু চাপা কষ্ট –
হৃৎপিণ্ডের ঠিক মাঝখানটিতে;
ধুকপুকানি বেড়ে যায় অস্থিরতায়,
হৃদয়ের তার ছিঁড়ে ছিঁড়ে যায় –
অপরিসীম অকথ্য যন্ত্রণায়!
ভেঙে চুরমার করে দিতে চায় প্রাণ,
যা কিছু আছে সব – অবলীলায়!
আবারও ফিরে আসি নিজেতে!
বুঝতে পারি, মানুষ যে – নিয়তি এমনই!
একটু কষ্ট তখন –
সুনীল আকাশ, রিমঝিম বৃষ্টি,
ঝিরঝিরে বাতাস, মহামায়ার সৃষ্টি,
আর চাঁদের আলোয় মিলিয়ে যায়!
আমি আপনার মাঝে তোমারেই পাই,
আর প্রাণের আলোকে আবারো হারাই!
“কষ্টই তো! নয় কি?”
জন্মান্তরের দৃঢ় বন্ধনে জড়িয়ে আছি যেখানে,
পার্থিব অবহেলায় তবুও পুড়ে এই মন;
শৃঙ্খল আমি ভেঙে যেতে পারি না কিছুতেই,
হৃদয় পুড়িয়ে, শুধুই তড়পাই অনুক্ষণ!
তুমি কি বোঝো না কেন এতো একাকী আমি,
কিসের নেশাঘোরে আমি উন্মত্তা বিষন্ন?
আকাশ গঙ্গা নই তো আমি পৃথিবীর আবর্তে,
তবু্ও আমায় বুঝতে এতোটাই অপ্রসন্ন!
পৃথিবীর মায়াকাননে অস্তরবির ক্ষণেও জ্বালা,
সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে শুধুই – তুমি আর তুমি!
অথচ তোমার পৃথিবীর সুবিশাল অঙ্গন মাঝেও,
কিছুতেই একটুখানি স্পর্শ পাই না আমি!
মাঝে মাঝেই তাই ভেঙে চুরে দিতে মন চায় খুব,
মন চায় ধূলিসাৎ করে দিতে এই বাস্তবতা;
ফিরে ফিরে তবুও আবারো তোমারই রঙ তুলিতে,
নিজেরে পুড়িয়ে সাজাই – গাই জীবনগাঁথা!
“জীবন রে জীবন!”
এই জীবন ধারার সবকিছুই অর্থহীন!
যদিও জীবন নয় ভাবনা বিহীন!
জীবন আমাকে রেখেছে বেঁধে,
অথচ খেলাঘরে যাই শুধুই সেধে!
প্রাণের স্পর্ধায় নিরলস টানে,
অস্তরবির নেশায় ডুবে থাকার মাঝেও –
অপরিসীম উন্মাদনা;
তাকেও অস্বীকার করার সাধ্য নেই কারো,
কোনভাবেই তা ছেড়ে থাকা যায় না!
হাসি কান্না আর প্রাপ্তি কিংবা
হারানোর বিষাদে জর্জরিত প্রাণে –
আপ্লুত থাকার নামই বুঝি বা জীবন।
যদিও জীবন – নিছক এক সাজানো মঞ্চ,
যার প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে,
জীবনকে সজোরে আঁকড়ে ধরে থাকার
অদম্য বাসনা আমরণ!
ছুটে চলি জীবনের ব্যাকুল তাড়নায়,
অথচ মৃত্যু চরম সত্য।
জীবনের জটিলতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ,
অথচ মৃত্যু এলেই নিমেষে সবকিছুর অবসান –
সময়ের কাছে লীন জীবনের সব পথ্য!
আমার বোধ, আমার চেতনা,
আমার সমস্ত আবেগের তাড়না,
সবকিছুই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের বুকে
ভাসমান ফেনারাশি;
আমি ক্লান্ত, আমি শ্রান্ত, তবুও জানি –
আমি কিছুই নই, শুধুই
জীবন খেলায় ব্যস্ত তবুও জীবন উদাসী!
“খুঁজে ফিরি অনন্ত তৃষ্ণায়”
দুরন্ত পাগলপনায় আমি মিশে রই বাতাসে,
একাকী অস্থির ক্ষণে তোমারেই ডাকি;
অসম্ভব অধীরতায় আকুলিবিকুলি হৃদয়ে,
মনে প্রাণে সমস্ত চেতনার মাঝে জানি –
তুমিই, কেবলই তুমিই একমাত্র কান্ডারী!
সকল দুঃখ-দুরাশার মাঝে তুমিই দাও আশা!
তোমাতেই মিলনের লাগি আমি অবচেতনে,
দিন রাত্রি আর সকাল সন্ধ্যার আবগাহনে,
পার্থিবতার শৃঙ্খল অগ্রাহ্য করে,
খুঁজে ফিরি অনন্ত তৃষ্ণায় তোমাকেই দিশেহারা!
পৃথিবী জানে না, জানো শুধুমাত্র তুমিই সবই –
কী ভীষণ দহনের জ্বালায় আমি ক্লান্ত, আর
নিরন্তর কী ভীষণ অভিমানে প্রাণ অশ্রু সজল!
নিছক এই পৃথিবীর কোলে জড়িয়ে মায়ায়,
তোমার ইশারা বুঝি, আমার কি সাধ্য বলো হায়!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
you may also read beautiful bengali poems of renowned poets, click the link http://www.bangla-kobita.com

