“জীবন চক্র”
জীবন চক্রের বিপুল আয়োজন,
এক বৈচিত্র্যময় অন্তবিহীন সমাহার!
খেলাধুলা কিংবা বেতাল সময়ের মাঝে,
জীবন চক্রের বর্ণময় অনন্ত বাহার!
আমি দেখি, তুমি দেখো না;
কিংবা তুমি জানো, আমি জানি না;
শুধুই জীবনের তালে ভেসে চলি, আর
সময়কে বেঁধে রাখার জন্যে করি –
অনিমেষ পাগলামী বারবার!
জীবন চক্রের এই তো ধারাবাহিকতা,
এই তো সময় নিয়ে সময়ের খেলা;
সময়ের ধ্বজা ধরে, সময়ের সুতো টেনে,
দীর্ঘ এই পথচলা তোমার-আমার! (“জীবন চক্র”)
“নিষিদ্ধ সময়ের ঘড়ি”
আবেগের তাড়নায় আমি হারাই না আর,
খুঁজতে যাই না আমি আর হৃদয়ের স্পন্দন;
আমি এখন বাস্তবতার নিষ্ঠুরতার শিকার
সময়ের অনলে জীবন জুড়ে শুধুই কম্পন!
জানালার কার্নিশ ছুঁয়ে তাকিয়ে দেখে মন,
তোমার জন্য শুধুই খোলা দরজার হাওয়া!
ব্যর্থতার এই জীবন আমার কাছে আজ,
নীরবে নিঃশব্দে শুধু জীবনের পথ চাওয়া!
ভাবনার অতলে হারিয়ে আমায় যদি পাও,
স্বপ্নআঁখি বুজে তুমি উত্তাল সমুদ্র দিও পাড়ি!
আমার ক্লান্তি ছাপিয়ে, দুরাশার তরী বেয়ে,
আসবো না আমি নিষিদ্ধ সময়ের হাতে ধরি!
আমি আমারই মনের খেয়ালে সাজিয়ে পৃথ্বী,
সুদূরের মোহনায় জ্বালিয়ে রাখবো দীপশিখা!
হৃদয়ের বীণার তারে তুলবো না কভু ঝংকার,
স্বপ্নের দুয়ারে তোমার আঁকবো না স্বপ্নরেখা!

“আমার জন্যেই – জীবন চক্র”
আমি অকুল দরিয়ায় খুঁজে ফিরি তীর,
ভাব সাগরে ডুব দিয়ে পাই তোমারে!
আমার সাদা কালো এই জীবনের ঘরে,
তুমিই তো এক, ভিরাবে আমায় তীরে!
জীবন নদীর অশান্ত ঢেউয়ের দোলায় –
ক্লান্তিতে ভেঙে চুরে চুরমার বারেবার;
তবুও জানি, মনে প্রাণে জানি এই আমি,
তুমিই আছো সদা, করবে আমায় উদ্ধার!
আমি চেয়ে থাকি পথ, তোমারই আশায়,
ব্যাকুল হৃদয়ে উথলায় নিতি অশ্রু সরোবর!
মনের অগোচরে তুমিই এসে বলে যাও –
আমার জন্যেই গড়েছো তুমি বিশ্ব চরাচর!
“এক অদেখার ধ্বনি”
ধর্ম কর্ম তো করো না আজকাল!
ধর্মীয় বিশ্বাসে যদিও জানি –
মন প্রাণ অটুট তোমার!
কেউ ধর্ম কর্ম সাধন করেও,
বিশ্বাসে হানলো আঘাত,
তাই বলে তুমি দিবে ধর্মকে অপবাদ?
তোমার মনের মাঝে অব্যক্ত ভাষায় –
নিঃসীম শূণ্যতার আহ্বানে,
শুনতে কি পাও না তুমি,
এক অদেখার ধ্বনি নিরজনে?
তোমার মনের নিশছিদ্র গহীনে,
অধর্মের নেই ঠাঁই;
তবুও তুমি বিভোর এই মায়াকাননে!
আমিও পারি না এড়িয়ে যেতে –
পার্থিবতার তুমুল প্রভাব!
সময়ের বন্ধনে জড়িয়ে রাত্রিদিন,
নির্দ্বিধায় ভেসে চলি মাড়িয়ে সংঘাত!
পার্থিব জগতে তুমি-আমি নই কিছুই,
ভেসে চলা নিরবধি সুদূরের হাতছানিতে!
জীবন ফুরিয়ে যাবে জানি না কখন,
র’বে না কিছুই আর,
এই জীবনের দুর্বোধ্যতা মিটাতে!
মনে জাগে ভীষণ ভয়,
আবার কেটেও যায় সংশয়;
জানি, দুরাশার আধি কেবলই মায়া!
জীবন ফুরিয়ে আরেক জীবনের তরে,
খুঁজে পাবো প্রাণ অন্তবিহীন আলোর পথে –
কাটিয়ে এই জীবনের সমস্ত অপচ্ছায়া!
“বাস্তবতার সাথে লড়াই!”
সময়েরই ভাবনায় তলিয়ে বারেবার,
ক্লান্তিতে জড়িয়ে যায় শরীর ও মন!
খুঁজে ফিরি সুবাতাস প্রাণের গভীরে,
স্বর্গীয় সুধায় ভরে যায় অপূর্ণ স্বপন!
আমি ভুলে যাই সব, হয় ক্লান্তি হরণ!
জীবনের পারাবারে ছুঁড়ে দিয়ে দুরাশা,
শিহরিত স্বপনের সাজাই পুষ্প ডালা!
অশ্রুসিক্ত আঁখি ছলছল জলে উথলিয়ে,
অশ্রু জলের বিন্দুতে গাঁথে মুক্তোর মালা!
আমি ফিরে আসি, সাজাতে অর্ঘ্য থালা!
আমারই প্রাণের মাঝে যে ব্যথার কান্না,
কষ্ট সে তো নয়, বাস্তবতার সাথে লড়াই!
মাঝে মাঝেই তড়পাই যন্ত্রণার বিষানলে,
সময়কে সাথে নিয়ে অন্তহীনতায় হারাই!
আমি জীবনের মাঝে জীবন খুঁজে পাই!
স্বর্গীয় সুধায় ভরে পরিপূর্ণ হৃদয়ের ঘরে,
আমি ভুলে থাকি পার্থিবতার সুদৃঢ় শৃঙ্খল!
জীবন ফুরিয়ে যায় অপার্থিবতার আশায়,
হৃদয় পুড়িয়ে নামে অবিরাম বৃষ্টির জল!
আমি আমারই মাঝে ডুবে ভুলি কোলাহল!
“মুগ্ধতায় অপলক দৃষ্টি”
বেশ ক’দিন পর তোমার সাথে দেখা হলো, তাই না?
বেশ লাগছিলো তোমাকে, বরাবরের মতো!
তোমার ঝলকে বর্ণময় হয়ে যায় চরাচর, আর
তুমি পাশে থাকলেই পৃথিবীর রঙ বদলে যায়!
এই খানিকটা সময়ের জন্যেই তো আমি বেঁচে থাকি!
বিক্ষুব্ধ যন্ত্রণার অসহ্য কাতরানি সয়ে সয়েও যখন,
একটুখানি সময়ের জন্যে তোমার দেখা মিলে,
যখন তোমার চোখের মায়ায় ঠোঁটের ঝিলিক খেলে,
তুমি যখন প্রাণের স্পর্শ দিয়ে প্রাণ ছুঁয়ে যাও,
সমস্ত অরিত্রীর সকল অসামঞ্জস্যতা হয়ে যায় ফিঁকে!
পৃথিবীর মায়াকাননে অস্ত আর উদয়ের পথে জীবন!
শত জ্বালা বুকে নিয়েও মুগ্ধতায় অপলক দৃষ্টি!
শুধুমাত্র তোমারই জন্যে পৃথিবীর সকল মুগ্ধ চাহনী!
তোমারই জন্যে মায়া কাননে ফুটে থাকে পলাশ বকুল!
তোমাকে জড়িয়ে ভালোবাসা আঁকি মনের রঙ তুলিতে!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
