“জীবন আকণ্ঠ মেতে রয়!”
ভোরের আলোর অপেক্ষায় পৃথিবী!
আর জেগে আছি আমি –
আলো ঝলমলে সূর্যের কিরণের উত্তাপে,
নিজেকে পুড়িয়ে আলো দিবো বলে!
আলোকিত পৃথিবীর বুক আলোয় ঝলমলে,
শান্তির বারতা নিয়ে আশায় উজ্জ্বল!
কিছুতেই তবুও পাই না যে খুঁজে আমি,
পার্থিবতের কুল ছাপিয়ে, তৃষ্ণার জল!
জীবনের প্রয়োজনে জীবনের আয়োজন,
বুঝি বা এমনই হয় –
পুড়ে পুড়ে খাক তবুও জীবনের জন্যে,
জীবনের খেলায় জীবন আকণ্ঠ মেতে রয়!
“ভাবনা বিহীন – জীবন আকণ্ঠ মেতে রয়!”
অশ্রু জলে ভাসিয়ে হৃদয়ের গহীন,
জীবন চলেছে দিব্যি ভাবনা বিহীন!
হৃদয়ের ডিঙির উথাল-পাথাল দশা;
জীবন তবুও দেখে স্বপ্ন, করে আশা!
ক্লান্ত পথিক হারিয়ে পথের নির্ণয়,
পথ মাঝেই নির্বিকার, সটান পড়ে রয়!
দুরাশার মেঘের অন্তবিহীন ঘনঘটা,
তবুও জীবন জুড়ে তোমারই রঙের ছটা!
অসম্ভবের স্পর্শ পেতে সম্ভাবনার দ্বারে,
ব্যাকুল হৃদয় উতলা, কান্নায় ভেঙে পড়ে!
নিঃশব্দে কাঁদছে প্রাণ, দুঃসহ আবেগে –
একাকী আঁধারে, নিদ্রাহীন রাত্রি জেগে!
স্বপ্ন দেখার ইচ্ছে গুলো পার্থিবতায় ম্লান,
তবুও স্বপ্ন আসে ফিরে ফিরে, জাগে প্রাণ!
আমার জন্যে পৃথিবীর বুকে উত্তপ্ত কিরণ –
আলোতে বিদীর্ণ, তবু্ও পুড়ে ছাই দেহ-মন!
“সৃষ্টিলোকের পাড়ে”
এক অবিনশ্বর তার রঙের ছোঁয়া দিয়ে,
রাঙিয়ে দিয়েছেন এই দুনিয়া।
দুনিয়ার মানুষ তার এক অনবদ্য সৃষ্টি।
আর জীবন নামের খেলাঘরে মানুষের বিচরণ,
মানুষকে দিয়েছে কষ্টের তীব্রতার সাথে –
সুখানুভূতির অনাবিল স্পর্শের পরিতৃপ্তি।
জীবনের পরিপূর্ণতার খোঁজে মানুষ চলছে;
সুদীর্ঘ কিন্তু ক্ষণস্থায়ী সেই গতিপথে,
মানুষের ভীড়ে মানুষ, আর মানুষ –
ঠিক সেই ক্ষণ অবধি নিয়োজিত,
যতোক্ষণ না মৃত্যুদূত এসে জীবনের অবসানে,
প্রাণের পার্থিব বিনাশ করছে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে মানুষের সংযোগ,
মানুষকে এক সুশৃঙ্খল বন্ধনে,
বেধে রাখার রূপরেখা মাত্র।
আর এই রূপরেখার একমাত্র রূপকার –
এক অবিনশ্বর স্রষ্টা।
সকল ধর্মের মাঝেই রয়েছে,
সুশৃঙ্খল জীবনের কিছু পালনীয় বিধান।

সৃষ্টির আদি থেকে বিভিন্ন ধর্মের মাঝ দিয়ে,
যুগে যুগে মানুষ নিজেকে সমর্পণ করেছে –
কেবলই একক স্রষ্টার আশ্রয়ে।
ধর্মগ্রন্থের সমস্ত আদেশ, উপদেশ
আর বিধিমালা –
মানুষের বিশ্বাসের উপরই প্রতিষ্ঠিত।
মানব সত্ত্বায় বিশ্বাসের দৃঢ়তা স্থাপন করে দিয়ে,
নিজের আসনে অধিষ্ঠিত স্রষ্টা।
মানুষের জীবন জুড়ে মায়াজালের
এক সুবিস্তৃত কাঠামো তৈরী করে দিয়ে,
স্রষ্টা আপন মহিমায়
সেই মায়াজালের ধারক ও বাহক।
ধর্মীয় জ্ঞানের আলোতে প্রাণের বিকাশ।
ধর্মীয় জ্ঞান আহরণের নৈবেদ্য,
স্রষ্টার অলৌকিক স্পর্শেই পায় –
অসীমের মাঝে নিবেদনের অনিমেষ মুগ্ধতার প্রয়াস।
সৃষ্টির গরিমায় স্রষ্টার অবগাহন।
স্রষ্টার সৃষ্টিশীলতার অসম্ভব প্রকাশে
সৃষ্টির সৌন্দর্য দর্শন।
সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার অনন্ত রূপের সমাহার।
স্রষ্টার পরাক্রমশালী সত্ত্বার অনুগ্রহে
সৃষ্টিমাঝে প্রাণের আধার।
সৃষ্টির জন্ম, সৃষ্টির বিনাশ – স্রষ্টার একান্ত পরিকল্পনা।
সৃষ্টির বিনাশ, সৃষ্টির পুনরুত্থান –
স্রষ্টার আপনার রঙের আরাধনা।
স্রষ্টাকে আমি ততোটুকুই জানি, যতোটুকু আমি
জানি না নিজেকেও।
আমার অস্তিত্বের আভরণে আমি স্রষ্টাকেই পাই নির্জনেও।
ইহলোককে ঘিরে পরলোকের সমুদয় ভাবনা।
পরকালের আবর্তে ইহকালের পথ পরিক্রমার সাধনা।
পার্থিব জগতে সমস্ত চেতনার মাঝে
অপার্থিবতার টানে পরিভ্রমণ।
অপার্থিবতার খেয়ালে
মানব মনে পার্থিবতায় আবাসন।
স্রষ্টার একক সত্ত্বার আয়ত্বে সমস্ত চরাচর নিস্তব্ধ।
স্রষ্টাতে বিশ্বাসে নিমগ্নতাতেই সৃষ্টিকুলের পার্থিব-
অপার্থিব উভয় লোক আবদ্ধ।
“অদ্ভুত এই হৃদয়ের বন্ধন”
ঘুম এলো না আজ অজানা কারণে!
জরুরী নয় ঘুম সবসময় যদিও,
কিন্তু অস্থিরতাটুকু আজ হঠাৎ করেই –
যেনো আমাকে মারছিলো পিষে!
চোখ দু’টো বুজে ছিলাম সময়টুকুতে,
ভেতরের অস্থিরতাকে চেপে রেখে!
ভাবনায় ছিলো অন্য কারো অস্থিরতা,
হয়তো বা তারই রেশ পড়েছে মনেতে!
বড় বেশী অদ্ভুত এই হৃদয়ের বন্ধন,
অকাতরে ছটফটায় যখন তখন!
বুঝতে পারা যায় না সহজেই –
কখন কিসের নেশায় সে মাতে অকারণ!
মানব জন্মের নিগূঢ় ইশারা এই তো,
তোমার কান্নায় হবো আমিও ব্যথিত!
তোমার কষ্টে আমারও ঝরবে অশ্রুজল,
যতোই সুখের উল্লাসে থাকুক বিহ্বল!
পাওয়া না-পাওয়ার জীবনের খেলাঘরে,
বুঝি বা এই তো প্রাপ্তি জীবন ঘিরে!
“অন্বেষণ”
বিশাল শূণ্যতার পানে তাকিয়ে থাকি,
আর তোমাকেই শুধু খুঁজে ফিরি!
শূণ্যতার মাঝেই কি তোমার বসবাস?
আমার চোখে তুমি কি কেবলই আকাশ?
সেদিন একাকী সেই নির্জন ক্ষণে,
সুবিশাল শূণ্যতার আহ্বানে ব্যাকুল প্রাণে –
আমি ভাসছিলাম নীলাভ জলের ‘পরে,
উন্মুক্ত নীলাকাশ তখন মাথার উপরে!
শুধালাম তোমাকে, বিনীত অনুভবে –
এতো সুন্দরের মাঝে কষ্ট কেন র’বে!
ভাবনায় তোমাকেই জড়িয়ে আমারই,
ফিরছিলাম খুঁজে সদুত্তর তারই!
সৃষ্টির অনন্ত অসীমের মাঝে জানি তো,
তোমারই বৈচিত্র্যের পশরা সাজিয়েছো!
প্রাণের অফুরান নেশায় মাতিয়ে চরাচর,
ভরিয়ে রেখেছো তুমি জীবনের খেলাঘর!
সময়ের খেলা শেষে আবারও তুমি,
ভরিয়ে দিবে তোমার সৃষ্টির মনোভুমি!
আমি তো কেবলই চেয়ে দেখি বিশালতা;
ভাবনায় জড়িয়ে, প্রাণে তবু্ও আকুলতা!
পার্থিবতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ এই প্রাণে –
ছটফটাই নিরন্তর, অবশেষে ফিরি তোমাতেই,
অদম্য তৃষ্ণা নিবারণে!
“সমর্পিতা”
দীর্ঘ নিশি জেগে থাকি এই আমি,
তোমারই রঙের ছোঁয়া পেতে!
তুমুল আবেগের স্পর্শে আমি –
তোমাকেই খুঁজি উদয়ের প্রাতে!
কিছুই নই আমি বিশালতার ছায়ে,
অতি ক্ষুদ্র প্রাণ এক শুধু জানি;
তোমারই রঙের অফুরন্ত কিরণে,
বিদীর্ণ হয়ে যায় ক্ষুদ্রতার গ্লানি!
আমি জেগে থাকি ভীষণ আঁধারে,
জেগে থাকি অকাল বর্ষনেও –
তোমার রঙের সুধা জড়িয়ে প্রাণে,
হৃদয়ের বীণার সুর হারায় যদিও!
অস্তিত্ব আমার স্বপন মাঝেও জাগে –
তুমিই যে থাকো সমস্তটা জুড়ে;
ক্ষনিকের সুখের তাড়নায় কখনো বা,
হৃদয় আর মস্তিষ্ক মনন যায় পুড়ে!
সমর্পিতা এই হৃদয় পুড়িয়ে আমি,
সাজাই তোমারই গুন কীর্তন;
তোমারই মাঝে লুটিয়ে সর্বস্ব,
আমি ভুলে থাকি জীবনের রঙ!
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali poems written by renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/
