“জীবনের লেনাদেনা”
আমি তো মাটির এক অতি ক্ষুদ্র টুকরোর চেয়েও ক্ষুদ্র প্রাণ!
কি করে আমি গাইতে পারি বলো জীবনের গান?
ক্ষণিকের তরে তোমাদের মাঝে থাকতে পেরেই আমি ধন্য!
এর চেয়ে বেশী পাবার যোগ্যতা বুঝি বা রাখি, নগন্য! (জীবনের লেনাদেনা)
এতো প্যাঁচের এই জীবন খাতার মাঝেও যতোটুকু পাই প্রাণে,
তার চেয়ে বেশী কিছু চাইবার দুঃসাহস রাখি না মনে!
আমার তৃপ্তি, আমার শক্তির কণাটুকুও যদি পারতাম বোঝাতে,
তোমাদের খেলাঘরে হয়তো আমি ঝরে যেতাম প্রাতে! (জীবনের লেনাদেনা)
তার চেয়ে এই তো আছি বেশ যদি জীবন ফুরোয় এই প্রাপ্তিতে,
আসুক তুফান যদি সামলে নিয়ে রাত, ঝরেও যাই প্রভাতে!
অতি আকাঙ্খার স্বপ্ন কভু আমার ছিলো না জীবনের খেলাঘরে,
তাই তো আজও ভাবনায় নই তাড়িত, চেয়েও দেখি না ফিরে!
শুধু হাসি খেলে এই পৃথিবীর ‘পরে মিলাতে চাই তাল আর ছন্দ,
হৃদয়ের গহীনে কখনও বা যদি এসেও যায় নিরানন্দ!
একাকী আঁধারে এই একাকী জীবনে, একাকী হৃদয়ের কান্না;
আমি কিছু নই, তবুও আমাতেই জীবনের সব লেনাদেনা!

জীবনের লেনাদেনা!
“প্রকৃতি মাঝে”
গাছের সবুজ পাতা জীর্ণ হলদে হয়ে যায়!
সব ফুলই ঝরে পড়ে সময়ের পূর্ণতায়!
রাতভর ঝড়ের তান্ডবলীলার পরে,
ঝড় থেমে গিয়ে আসে সোনালী সকাল!
সারা দিনের অফুরন্ত কিরণ,
দিনশেষে নিরংকুশ আঁধারে মিলিয়ে যায়!
অঝোর বর্ষনের পর প্রখর রৌদ্র, আর
উত্তপ্ত মৃত্তিকার বুকে হাসে বৃষ্টি স্নাত পুষ্পরেণু!
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের ব্যত্যয় সচরাচর হয় না!
প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে,
আপন রূপের ছটায় প্রকৃতিকে সাজিয়ে রাখে!
তুমি আর আমি সেই প্রকৃতির অফুরান ঐশ্বর্যের –
ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র এক অংশ মাত্র!
আর তাই, অতি বিনয়ের সাথে মাথা নত করে,
প্রকৃতির কান্না-হাসির পশরা সাজাই!
“অনন্ত প্রেম”
প্রেমের অতল সমুদ্রে আমি হারাই বারেবার!
ভালোবাসি আমি প্রাণ ভরে,
বুকে জড়িয়ে ধরি পরম মমতায়,
বিশ্বাসে মিশিয়ে দিই সমস্ত চেতনার রঙ!
আর প্রেম –
দুরন্তপনায় আমায় কাছে টেনে নিয়ে,
নিমেষেই হারিয়ে যায় কৃষ্ণ গহ্বরের অতলে!
খুঁজে আমি আর পাই না তারে, কোনো ছলে!
আমারও তো দস্যিপনার নেই কোনো অভাব,
বুকের পাঁজরে লুকিয়ে রাখি,
সময়ের অতলে চোখে কাজল মাখি,
রঙধনুর রঙে আবারও সমুদ্রে ভিড়াই তরী!
আর প্রেম সে তো আলেয়া,
যতোই আমাকে নিয়ে করুক হেলাফেলা,
আমার প্রেমাসক্ত প্রাণে জাগবেই প্রেমের নেশা,
প্রেমের সমুদ্রে আমিও বারেবার হারাবো দিশা!
জনমের সাধ নিয়ে প্রেম আসে ফিরে ফিরে, তাই
ভালোবাসি প্রাণের আবেগে,
হৃদয় মেলে দিয়ে অন্তবিহীন কুয়াশায়,
আর তোমারই রঙের ছোঁয়ায় হৃদয় রাঙাই!
প্রেমের আগুনে পুড়ে পুড়ে জ্বলন্ত অঙ্গার হয়েও,
প্রেম বিনা জনমের সাধ মিটে না;
হৃদয়ের গহীন গভীরতা মাঝে তাই রাত্রিদিন,
প্রেমেরই অনন্ত শিখা প্রজ্জ্বলিত নিতি ক্লান্তিবিহীন!
“নিভে গিয়েছে দীপ” (জীবনের লেনাদেনা)
পরাণ পাখি আমার,
এতো অস্থির কেন তুমি আজ?
হারিয়ে ফেলেছো কি
খুবই অমূল্য কিছু তোমার?
ফেলে এসেছো কি তাকে,
যার লাগি সদাই অন্তর কাঁদে?
কেন গো পরাণের পাখি,
তুমি কিসের ব্যথায় উদাসীন?
অস্থির তোমার চাহনীতে আজ,
পৃথ্বীর আবরণ নিস্তব্ধ মলিন!
পরাণ পাখি, অস্তিত্ব জুড়ে তোমার,
কিসের তড়পানি দৃশ্যমান!
কি এমন অনুরাগের উত্তাপে ক্লান্ত,
তোমার কিসের অভিমান!
আমার পরাণ পাখি,
তোমার দৃষ্টিতে অগ্নি বর্ষন কেন?
পরাণ ভরে কেউ জড়িয়ে ধরেনি,
তাই কি আঘাত হানো?
পরাণ পাখি, চোখ মেলে তাকাও,
দেখো সুবিস্তীর্ণ বিশ্ব চরাচর;
কী ভীষণ আনন্দ ধ্বনিতে দেখো,
চারিদিকে অনন্ত কোলাহল!
পরাণ পাখির পরাণ মন্দিরে –
দীপ শিখা গিয়েছে নিভে;
পরাণের গহীনে তাই,
আজ আর আলো নেই প্রদীপে!
“জীবনযুদ্ধ”
তোমার ঘরে নিয়ন বাতির মৃদু আলো,
আর আমি আছি অন্ধকারে ছেয়ে;
বেঁচে থাকার এই জীবন যুদ্ধে –
নিরন্তর লড়ে চলেছি দিশেহারা আমি,
চারিদিকে শুধুই এলোমেলো একঘেয়ে!
তোমার পথ কণ্টকবিহীন স্নিগ্ধ মসৃণ,
আমার পথ কণ্টকাকীর্ণ, নুড়িপাথরে;
সকাল সন্ধ্যা সেই পথের খেলায় –
রক্তাক্ত পদযুগল তবুও চলমান;
জীবন কেঁদে ফিরে, জীবনের খেলাঘরে!
তুমি প্রেমেরই আগুনে শুধু জ্বলো,
প্রেমের নেশায় ডুবে দুঃখী তোমার প্রাণ;
আমি বুঝি না প্রেম কিংবা জ্বালা!
জীবন খেলায় বিধ্বস্ত প্রাণ আমার,
অন্তর বিদগ্ধ, দুরাশায় সদা কম্পমান!
আমার কাঁধের উপর সাধ্যাতীত বোঝা,
তুমি পৃথিবী সাজাতে গাইছো গান;
জীবন লুটিয়ে কাঁদে পৃথিবীর শয্যায়,
তাতে কার কি-ই বা এসে যায়, তাই
তোমার সাজানো ঘরে আলোকিত উদ্যান!
জীবনের এমনই ব্যবহার প্রতিটি স্পন্দনে,
তুমি-আমি কেউ নই তার অপরাধী;
কেউ প্রেমের বিরহে হয় উন্মাদ প্রায়,
কারো ঘরে সন্ধ্যার বাতি জ্বলেনি বহুদিন!
জীবনের অসহনীয়তাই শুধু চলে নিরবধি!
“প্রেমানুভব”
সুখে থাকো স্বজন আমার, অনন্তর সুখে থাকো তুমি,
সুখের পরশ বয়ে যাক তোমার পূণ্য মনোভূমি;
অস্তরবির নেশায় পাগল জীবন খেলামাঝে,
রাঙিয়ে জীবন রঙের ভেলায়, সকাল সন্ধ্যা সাঝে!
দিগন্তের ঐ আকাশ ছোঁয়া নীলের, আদিগন্ত বিষাদে,
রইলো না হয় আমার ভাঙা খেয়া উদ্ভ্রান্ত অবসাদে!
না হয় আমি উথাল-পাথাল ঢেউয়ের দোলায় ভেঙে,
অস্তিত্বহীন প্রাণে, হারিয়ে যাবো ভরাডুবির বানে!
ঝলমলে আলোকোজ্জ্বল সময়ের কসম আমার –
তোমার জন্য ধরামাঝে ফিরে ফিরে আসবো বারেবার!
তুমি শুধু সুখে থাকো – এই আমার প্রার্থনার দাবী,
আমার জীবন জুড়ে, আর কিছু নয়, শুধু তুমিই সবই!
মাটির মায়ায় মিলিয়ে যাবো অনন্ত অসীমের ডাকে,
প্রতীক্ষায় আমাকেই তুমি পাবে, প্রতিটি জন্মের বাঁকে!
প্রাণের অনুভবে তোমাকেই জড়িয়ে থাকি সারাক্ষণ,
সুখে থাকো সুহৃদ তুমি, আর কিছুতেই নেই প্রয়োজন!
“দ্বন্দ্বমুখর জীবন!”
ভেঙে চুরে চুরমার খানখান খন্ড বিখন্ড হয়ে যাই,
তারই মাঝে পূর্ণোদ্দমে উঠে সচল দাঁড়াই!
অসম্ভব পীড়নে জীবন খেলা অসহ্য হয়ে উঠে,
বাগানে গোলাপ, বেলী, হাসনাহেনা ফুটে!
জীবন ছেড়ে আমি দৌড়ে পালাতে হই উদ্যত,
জীবনের মাঝে তবুও খেলা করে আনন্দ অফুরন্ত!
কষ্টগুলো ভীষণ অভিমানে দুমড়ে মুচড়ে দেয় অস্তিত্ব,
অন্তর মাঝে জাগে প্রাণ কোজাগরী পূর্ণিমায় মত্ত!
চারিপাশে উত্তাল ঢেউয়ে উন্মত্ত সমুদ্র সফেন,
অতীব নির্বিকার প্রাণ যেন ট্রয়ের হেলেন!
চিত্তের অস্থিরতা প্রতি মুহুর্তে জ্বালিয়ে তোলপাড়,
কী ভীষণ শান্ত প্রাণে জীবনের পারাবার!
বুকের পাঁজরে অহর্নিশি ক্লান্তির অবিশ্রান্ত ডামাডোল,
জীবন জুড়ে রক্ত রাঙা রবির নাটকীয় কোলাহল!
প্রাণ আর পারে না, কিছুতেই পারে না চলতে,
তবুও চলমান প্রাণ অবিরাম জীবনের পরতে পরতে।
চোরাবালিতে আটকে আছে সমস্ত চেতনা,
অবলীলায় অট্ট হাস্যে জীবনের তবু্ও গল্প রচনা।
https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/
You may read beautiful Bengali Poems of renowned poets, click the link http://www.bangla-kobita.com
