“জন্ম নেয় নবজীবন!”

“জন্ম নেয় নবজীবন!”

সমর্পণের নেশা ঘোরে ক্ষত-বিক্ষত প্রাণ!

পথের মোড়ে আমি খুঁজে ফিরি তারে!

সমস্ত চেতনার রঙে রাঙিয়ে নীলের সীমানা,

ছুটে চলি উচ্ছ্বাসে, দিগন্তের ওপারে!

অস্তরাগের ক্ষণে আকাশের লালিমায় লুপ্ত!

ধীরে ধীরে প্রাণের স্পর্শে অবগাহন!

মাতৃগর্ভে অনায়াসে ঝড় তুলে মাতাল ভ্রুণ!

প্রাণের স্পর্শ প্রাণেতে করে সমর্পণ!

লুটিয়ে চেতনার সমস্ত রঙের ছোঁয়ার প্রভাব,

ঘিরে ধরে অকাতরে নির্নিমেষ বন্ধন!

জীবনের জন্য জীবনের আবির্ভাবের ছায়ায়,

মুক্তির স্বাদ নিয়ে, জন্ম নেয় নবজীবন!

“প্রেমকাব্য”

ভালোবাসতে শুধুমাত্র তোমাকেই,

আমি বারবার ফিরে আসি পৃথিবীতে!

হৃদয়ের সমস্ত স্পন্দনে আমারই –

অশ্রুর বন্যা, সে তো তোমাকেই পেতে!

এক জনমের বিরহে নই আমি ক্লান্ত;

জনম জনমে তাই নিতে বিরহের স্বাদ –

হৃদয়ের বীণা ঝংকার তুলে যায়,

ভুলে গিয়ে পূর্ব জনমের শত অপবাদ!

আমার প্রাণের আবেগের তাড়নায়,

শত-সহস্রবার আমি তোমাকেই চাই!

মিটাতে এক জনমের বিরহের জ্বালা,

প্রতি জনমে আমি তাই তোমাতেই হারাই!

তোমার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সুরের কম্পন,

আমি আমার পৃথিবীতে স্বর্গ সাজাই!

শুধু তোমাকেই ভালোবাসবো বলে আমি,

জনম জনমের তৃষ্ণায় প্রেমকাব্য রচে যাই!

“প্রাণের আকুতি – জন্ম নেয় নবজীবন!”

অন্তর মাঝে নিতি পার্থিবতার ডামাডোল,

জাগিয়ে রাখে আমায় নিশিভোর!

কিছুতেই আমি পারি না যেতে অবহেলে,

জীবন খেলার এই নিদারুণ ঘুর্নিঝড়!

আকাশ বাতাস মর্ত্য – সমস্ত কাঁপিয়ে,

আমি ঘুরে ফিরি একাকী অশান্ত নিশাচর;

বারেবার তবুও ঝড়ের প্রচন্ড দাপটে,

তছনছ হয়ে যায় আমারই শূণ্য খেলাঘর!

আমি আবারও পথ চলি, খুঁজি আশ্রয়,

মনে-প্রাণে নিয়ে তোমারই রঙের ইশারা;

বিশ্বাসে ধারণ করি তোমারই করুণা,

জানি, আমি নই যে কিছুই, তোমাকে ছাড়া!

অতি দীনহীন আমি এই জগৎ সংসারে,

ঝড়ের দাপটে যদিও হারাই চেতনা জ্ঞান;

অন্তর মাঝে সদা মিশে আছো তুমিই –

শুধু তোমারই কারণ, এই জীবনের গান!

জন্ম নেয় নবজীবন!
জাগতিক মায়াজালে লুটাই ধূলায় সে নেশা!

“পিয়াসা”

অনুভবের দুরন্ত নেশায়,

হৃদয় মাঝে পাই তোমাকেই;

জাগতিক মায়াজালে –

লুটাই ধূলায় সে নেশা!

শূণ্যতার অনিমেষ আহ্বানে,

ঘিরে থাকি তোমাকেই!

জীবন ফুরিয়ে যায়,

মিটাতে প্রাণের সুপ্ত পিয়াসা!

“মৌন ঝড়”

জীবনের গতিতে ঝড়ের বেগ, আর

হৃদয় মন মস্তিষ্ক জুড়ে –

সেই ঝড়ের দুর্নিবার তান্ডব লীলায়,

সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে চুরমার, বেশুমার!

অথচ তারপরও কী ভীষণ শান্ত চারিধার!

জীবন খেলায় প্রাণের নিঃশব্দ বিচরণে,

কোথাও নেই তেমন কোনো তোলপাড়!

নদীর উথাল-পাথাল ঢেউয়ের আঘাতে,

বিপর্যস্ত তীরের ভাঙনের খেলা।

উত্তাল জলরাশির তীব্র কম্পনে,

বারবার ফুঁসে উঠছে নদী।

অথচ তারপরও বয়ে চলা নিরবধি!

চাঞ্চল্যের স্রোতধারা, তবুও কী ভীষণ নীরব!

আর স্বাচ্ছন্দ্যে বহমান জীবনধারা!

জীবনের প্রতিটি স্পন্দন যেন সুখে ভরা!

মহাশক্তির এই মহা প্রকাশে –

মোটেও বিচলিত নয় সৃষ্টির যন্ত্রণা।

সৃষ্টি তার যন্ত্রণার মাঝেও বহন করে চলে,

মহাশক্তির আপনার রঙের ছোঁয়া।

ঝড়ের দাপটেও সহজ সাবলীল মৌনতা!

জীবনের খেলাঘরে শুধুই একরাশ শূণ্যতা!

“অভিমানের পেয়ালা!”

ফেলে এসেছি সময়ের খেয়ালে,

ভীষণ অভিমানের পেয়ালা!

মাড়িয়ে চলেছি তুমুল আলোড়নে,

অন্ধকারে আবৃত মেঘমালা!

জমিয়ে রেখেছি হৃদয়ের গহীনে –

অনন্ত অসীম প্রেম!

অশান্ত জীবন জুড়ে শুধুই তবু্ও,

আমি ঝড়ের তান্ডবে হারালেম!

https://lucysjourney.com/lucys-artistic-journey/

You may read beautiful Bengali poems of renowned Poets, click the link https://www.bangla-kobita.com/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *